মঙ্গলবার , ডিসেম্বর ১ ২০২০
   মঙ্গলবার|১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ|১লা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
    ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Breaking News

পর্দার অন্তরালে থেকে যাওয়া একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির আবেদন পরিবারের

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বনকুয়ার গোলাম রব্বানী তালুকদার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভালুকা থানা কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মদ এর অধীনে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধা গণ অত্র এলাকায় আগমনের সময় তাহাদের থাকা – খাওয়াসহ স্থানীয় ভাবে সার্বিক সমস্যা সমাধানে সহযোগীতা করে এবং সকল প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেন ।

গোলাম রব্বানী’র কাজে থানা কমান্ডার মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মদ সন্তুষ্ট হইয়া উনাকে অধিনায়ক জনাব আতাউল গণী উসমানীর স্বাক্ষরযুক্ত বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর  স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র প্রদান করেছিলেন। ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭৭ সালে ভালুকা থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কতৃর্ক একটি প্রশংসা পত্র প্রদান করা হয় ।

১৯৬৬-৬৮ ইং সনে তদানীন্তন খায়েদে আজম কলেজ, ঢাকা এবং ১৯৬৮- ৭০ ইং সনে ঢাকা কলেজে ” শেখ কামালের ” সাথে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন । উনি সুদীর্ঘ ৩০ বছর সহকারী পরিদর্শক হিসেবে সমবায় বিভাগে চাকুরী করেন ।

দেশের স্বাধীনতার জন্য নিস্বার্থ ত্যাগ-তিতিক্ষা ছিলো উনার, যার জন্যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সনদে কখনো কোনো প্রকার সুযোগ – সুবিধা নেয়া ইচ্ছে পোষণ করেননি। জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি বলতেন আমি কাজ করেছি দেশ স্বাধীনের জন্য, মানুষের স্বাধীনতার জন্য নিজের জন্য নয়। তাই কোনো দিন উনি মুক্তিযোদ্ধার সনদ তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন নি ! পর্দার অন্তরালে থাকা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সেই অহংকার, গর্ব আজ লুণ্ঠিত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী তালুকদার সাহেব ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মারা যান । একজন মুক্তিযোদ্ধার যে সম্মান টুকু পাবার কথা, তা থেকে উনি বঞ্চিত হন । একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা থেকে যান পর্দার অন্তরালে ! উনার পৈতৃক ময়মনসিংহস্থ সামান্য এক টুকরো জায়গায় বাসাবাড়ি, যা প্রায় ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম, সেটিও  চাচাত ভাই-বোন দখলের পায়তারা করছে। বিভিন্নভাবে ছলচাতুরি করে নাম খারিজ করে নেয় । ফলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়, যা  আদালতে এখনো চলমান । এই অবস্থায় উনার পরিবার চরম বিপদে দিন পার করছে !

এদিকে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলির কারনে সময় মতো মুক্তিযোদ্ধার সনদ পত্রটি তালিকাভুক্তি করা সম্ভব হয় নি উনার পক্ষে । তাই তার পরিবার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম গোলাম রব্বানী তালুকদার সাহেবর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ পত্রটি তালিকাভুক্ত’র মাধ্যমে একজন বীর-এর স্বীকৃতি চাই।

About Bappy Chowdhury

Check Also

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী-শিশুকন্যা হত্যা: আসামির ফাঁসি কার্যকর

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) মধ্যরাতে হত্যা মামলার এক কয়েদির ফাঁসি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *