বৃহস্পতিবার , সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২১
   বৃহস্পতিবার|১লা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
Breaking News

এপার-ওপার মিতালি! অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে সমৃদ্ধ আগামী দিনের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা ও বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্ন সত্যি হতে এখন অপেক্ষা শুধু সময়ের। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, সামর্থ্যের ঘাটতি, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে বিশ্ব অর্থনীতির মোড়লের পিছিয়ে যাওয়া—কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

পদ্মা সেতুতে বসেছে সর্বশেষ ৪১তম স্প্যানটি (২-এফ)। আজ বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১২টার দিকে শেষ হয় স্প্যানটি বসানোর কাজ। এর মাধ্যমে যুক্ত হলো পদ্মার এপার-ওপার। দৃশ্যমান হলো ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পুরো সেতু।

গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের (খুঁটি) কাছে নিয়ে যেতে যাত্রা শুরু করে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সেতুর ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। আর বসানোর কাজ শেষ হয় বেলা ১২টার দিকে।

ক্রেনটি স্টিল ট্রাস জেটি ছাড়ার সময় সেখানে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মীদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে ওঠে। কোনো জটিলতা ছাড়াই স্প্যানটি বসানো সম্ভব হওয়ায় তাঁদের সোয়া তিন বছরের শ্রম দেওয়া সার্থক হয়েছে।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় স্প্যানটি নিয়ে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই-এর রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে বিকেল সোয়া ৫টায় রওনা দেয়।

পদ্মা সেতুর একজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বলেন, এখানে অনেক সময় কুয়াশা এত বেশি হয় যে দুই ফুট দূরত্বেই কিছুই দেখা যায় না। কুয়াশার কারণে যদি বিঘ্ন না ঘটে তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে স্প্যান বসানো সম্ভব হবে।’

সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুতে এ পর্যন্ত ৪১টি স্প্যান বসানো হলো। বন্যা, নদীভাঙন, চ্যানেলে নাব্যতা সংকট, করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা জটিলতা কাটিয়ে একে একে এসব স্প্যান বসানো হয়।

এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর বসানো হয় ৪০তম স্প্যানটি। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসে। সেই হিসেবে তিন বছর দুই মাস ১০ দিনে বসানো শেষ হলো সেতুর সবকটি স্প্যান।

আয়তন ও নির্মাণ ব্যয়ের দিক থেকে পদ্মা সেতু দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ৬.১৫ কিলোমিটারের সেতুটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু। এটাই হবে দেশের প্রথম দ্বিতল সেতু। ওপরতলায় চলবে মোটরযান। নিচের তলায় ট্রেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগের নতুন এই সেতু চালু হলে তার হাওয়া লাগবে অর্থনীতির পালে। পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা পাল্টে দেবে।

পদ্মা সেতু যে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সামর্থ্য ও যোগ্যতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে। কৃষিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে। পদ্মাসেতুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হোক নতুন পালক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

About Bappy Chowdhury

Check Also

কোটি টাকায় ‘অহেতুক’ সেতু নির্মাণ

মাটি ও মানুষ : বিশেষ প্রতিনিধি :- পলিকা খালের মতো বান্দরবানের শহরতলির বিক্রিছড়ার ওপর নির্মিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *