বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৫ ২০২১
   বৃহস্পতিবার|২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Breaking News

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: গত ৫ ডিসেম্বর ২০২০ “পণ্যের নাম ও মোড়কের ডিজাইন নকল করে বাজারজাত করণ” শিরোনামে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ ও বিডিনিউজ৭১.লাইভ অনলাইন মিডিয়ায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে  এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক রাজিব।

কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক রাজিব বলেন, আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক, ভিত্তিহীন এবং আমার জন্য খুবই মানহানিকর।

তিনি বলেন,  বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র যেমন, ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সার্টিফিকেট, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, আই.আর.সি, এনিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আহকাব: ৫৮১) এর সদস্য সনদ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডি.এল.এস:৫৬৫) এর লাইসেন্স নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, আতœীয়তার সূত্রে ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম এর সাথে আমার পরিচয়। তিনি (ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম) নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর শুধুমাত্র একোয়াকালচার অংশের জন্য বিনিয়োগ করে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে আমরা উভয়ই একমত হয়ে অদ্যবধি আমরা একত্রে নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর একোয়াকালচার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমরা উভয়ই পরামর্শ করে ভারত ও চীন থেকে বিভিন্ন একোয়াকালচার পন্য আমদানির নিমিত্তে বিদেশি কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছি। বিভিন্ন পন্যের চাহিদা ও মূল্য দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় আমি আমার পক্ষ থেকে প্রচুর অর্থ, মেধা ও শ্রম ব্যয় করেছি।

প্রকাশিত সংবাদটিতে ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন আমি কিংবা আমার প্রতিষ্ঠান বিনা অনুমতিতে তার গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ব্র্যান্ডনেম ব্যবহার করছি। প্রকৃতপক্ষে অভিযোগকারী ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান এডিডিআইসি এবং আমার প্রতিষ্ঠান নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড আমরা একত্রে একোয়াকালচার ব্যবসা পরিচালনা করছি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিগত ৩/৩/২০১৯ তারিখে নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর পক্ষে আমি, মো: এনামুল হক রাজিব এবং এডিডিআইসি এর পক্ষে ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম রানা এর যৌথ স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতাপত্র সংযুক্ত করা হলো। তাই তিনি যে গ্রাফিক্স ডিজাইনসমূহের উল্লেখ করেছেন তাতে তিনি এবং আমি অর্থাৎ আমাদের সমান মেধা, শ্রম ও অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। একারণে কোনোভাবেই তিনি বা আমি কারও একক মালিকানা আইনগতভাবে বা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আরো অভিযোগ করেন,  ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম এবং আমি একত্রে বসে Aqua ox, H.Vit Plus, Abate, Hashpoka Killer, Herbicon, I.D Plus, Renu fight, Active blue plus, Renucon, G.R. Plus, Addzyme, Aqua C vit, Fishmate-N, Addsaline, O.T.C. Power, Carrysafe সহ নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর একোয়াকালচার অংশের প্রতিটি পন্যের গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ব্রান্ডনেম নির্ধারন করেছি। প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে অথবা ইমেইলে, এসএমএস এর মাধ্যমে পরামর্শ করেছি। এ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ে আমি তথা আমার প্রতিষ্ঠান নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এবং ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম রানা সমান মেধা ও অর্থ ব্যয় করেছি। তাই কোনক্রমেই এককভাবে ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম কিংবা এডিডিআইসি এসকল পণ্যের গ্রাফিক্স ডিজাইনের মালিকানা এককভাবে নিজের বলে দাবি করতে পারেন না।

কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক রাজিব তাঁর অভিযোগে বলেন, একত্রে ব্যবসা শুরুর পর থেকে প্রত্যেক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব আমি ও ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম একত্রে বসে সম্পন্ন করেছি এবং ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম এর পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান হতে ড. মোহাম্মদ নূরুল আলম নিজে স্বাক্ষর করে বিভিন্ন সময় যে অর্থ কিংবা পাওনাসমূহ গ্রহণ করেছেন এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আপনার সদয় অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হলো:-

ড. মোহাম্মদ নুরুল রানা কর্তৃক ব্যবহৃত মোবাইল নং (০১৬৮৭-৪৪৩***) হতে আমার মোবাইল নং (০১৩১৬-৯৪৭***) এ পাঠানো এসএমএস এ তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টের ঠিকানা দিয়েছেন, ডিলার এর প্রাপ্য কমিশন নির্ধারণ করে দিয়েছে। এছাড়াও অফিসারের নিয়োগের জন্য অফিসারের নাম, ঠিকানা প্রেরণ করেছেন। এসংক্রান্ত মোবাইল এসএমএস আমার নিকট আছে প্রয়োজনে উপস্থিত করা হবে। ড. মোহাম্মদ নুরুল আলম রানা তার ব্যবহৃত ইমেইল এ্যাড্রেস (nurulrana13@gmail.com) হতে আমার ইমেইল এ্যাড্রেস (zenithbau@gmail.com) এ গত ২০ জুন, ২০২০ তারিখে একটি ইমেইল পাঠান। উক্ত ইমেইলে দুইটি পন্য রেণুফাইট এবং রেণুকন এর লেবেল এবং বিস্তারিত পরামর্শ করেন। এসংক্রান্ত ইমেইল আমার নিকট আছে প্রয়োজনে উপস্থিত করা হবে। ঠিক একইভাবে একোয়াকালচার এর সকল পন্যের নাম, গ্রাফিক্স ও ডিজাইন নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই কোনোভাবেই এসকল পণ্যের মালিকানা এককভাবে ড. মোহাম্মদ নুরুল আলম রানা নিজের বলে দাবি করতে পারেন না।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমি আমার ইমেইল এ্যাড্রেস (zenithbau@gmail.com) হতে ড. মোহাম্মদ নুরুল আলম রানা এর ইমেইল এ্যাড্রেস (nurulrana13@gmail.com) এ গত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে একটি ইমেইল পাঠাই। উক্ত ইমেইলে নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর অর্গানোগ্রাম, কমিশন ডিসট্রিবিউশন, বর্তমান মার্কেট পলিসি, অফিসারদের জন্য প্রদেয় সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ করি। এসংক্রান্ত ইমেইল এর আমার নিকট আছে প্রয়োজনে উপস্থিত করা হবে।  নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আমি এবং ড. মোহাম্মদ নুরুল রানা বিভিন্ন সময় মোবাইলে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সংক্রান্ত একাধিক কল রেকর্ড আপনার সদয় জ্ঞাতার্থে সংযুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হলো।

প্রকাশিত সংবাদটির অভিযোগে বলা হয়েছে, কৃষিবীদ ড. মোহাম্মদ নুরুল আলমের স্বাক্ষর নকল করে ব্যাবসায় অংশীদার মিথ্যা চুক্তি, ব্র্যান্ড নাম হস্তান্তরের চুক্তিনামার জাল দলিল প্রদর্শন ও জীবন হানির হুমকি প্রদর্শন করে আসছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক রাজিব বলেন, প্রকৃত ঘটনা হলো অংশীদারি ব্যবসায় সন্তুষ্ট না হয়ে বেশি লাভের আশায় ড. মোহাম্মদ নুরুল আলম এককভাবে ব্যবসা পরিচালনার নিমিত্তে এবং যে ব্র্যান্ডনেম নিয়ে আমরা উভয়ই নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলাম সেই একই ব্র্যান্ডনেম ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসায়িক বৈধ লাইসেন্স এবং নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে “একোয়া লাইফ” নামে লেবেল করে বাজারজাত করছেন। বিভিন্ন বাজার হতে সংগৃহিত “একোয়া লাইফ” প্রতিষ্ঠানের লেবেল এর কিউআর কোড স্ক্যান করে আমি বিষয়টি জানতে পারি এবং অনলাইন পত্রিকা ”প্রতিদিনের বাংলাদেশ” এ গত ৫/১২/২০২০ তারিখে প্রকাশিত সংবাদ ও ছবি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হই। গত ৫/১২/২০২০ তারিখে নফহবংি৭১.ষরাব নামক অনলাইন পত্রিকাতেও একই বিষয়ে প্রায় একই ভাষা ও ছবিতে একটি খবর প্রকাশিত হয়। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে আরও জানতে পারি তিনি এর আগেও ব্যবসায়িক বৈধ লাইসেন্স এবং নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে “ফিশ এইড” নামে লেবেল করে বিভিন্ন পন্য বাজারজাত করেছেন এবং প্রশাসনের বাধায় বগুড়াতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড এর একোয়াকালচার ব্যবসা সম্পর্কীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমি এবং ড. মোহাম্মদ নুরুল আলম একত্রে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছিলাম। হঠাৎ অভিযোগকারী কোনোরকম পূর্ব পরামর্শ ব্যতিত তথ্য লুকিয়ে কিছু পন্যের গ্রাফিক্স ডিজাইনসমূহ কপিরাইট অফিস হতে শিল্পকর্ম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন সংগ্রহ করে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড কে বঞ্চিত করেছে। বর্তমানে উক্ত রেজিস্ট্রেশন এবং কপিরাইট অফিসে দাখিলকৃত তার অভিযোগের ভিত্তিতে আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠান নোভাস এগ্রোটেক লিমিটেড কে সামাজিকভাবে হেয় করছেন এবং প্রশাসনিক ভাবে হয়রানি করছেন। ফলে আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির আশংকা করছি।  আমি উক্ত প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিবেদক

কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক রাজিব

ম্যানেজিং ডিরেক্টর, নোভাস এগ্রোটেক লিঃ

চর কালীবাড়ী, লালকুঠি দরবার শরীফ, সদর, ময়মনসিংহ।

About Bappy Chowdhury

Check Also

করোনা নিয়ন্ত্রণে জরুরি করণীয় : ডা. লেলিন চৌধুরী

একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের ঘটনা অতিসম্প্রতি আমরা দেখেছি। অতিসংক্রমণশীল বিদেশি ভ্যারিয়েন্টের কারণে করোনায় আক্রান্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *