সোমবার , জানুয়ারি ১৮ ২০২১
   সোমবার|৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ|১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Breaking News

চিলাহাটি ও হলিদাবাড়ি রুটে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন,ভারত-বাংলাদেশ যোগাযোগের নতুন মাত্রা

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: অবশেষে অবসান হতে যাচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। নীলফামারীর চিলাহাটির সঙ্গে ভারতের হলদিবাড়ীর পথে আজ বৃহস্পতিবার থেকেই চলবে রেল। রেলপথে দুই বাংলার সংযোগ স্থাপনের ওই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘিরে চিলাহাটি রেলস্টেশন সেজেছে অপরূপ সাজে।

স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে এক হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার প্যান্ডেল। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বড় পর্দায় দেখানো হবে চিলাহাটিতে স্থাপিত প্যান্ডেলে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশের ৬.৭২ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ এর মধ্যে শেষ হয়েছে। ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই  প্রকল্পে রেললাইন স্থাপন ছাড়াও বসানো হয়েছে চার কিলোমিটার লুপ লাইন, আটটি লেভেলক্রসিং ও ৯টি ব্রিজসহ অন্য অবকাঠামো। এরই মধ্যে বাংলাদেশ অংশে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ভারত হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শেষ করে তাদের অংশে চালিয়েছে পরীক্ষামূলক ট্রেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে তাদের অংশেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশদ্বারে (তাদের অংশে) রেলপথের ওপর স্থাপন করা হয়েছে স্থায়ী তোরণ।

ব্রিটিশ আমল থেকে অবিভক্ত ভারতে যোগাযোগের প্রধানতম রেলপথ ছিল চিলাহাটি-হলদিবাড়ী। এই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করত দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন। ওই রেল যোগাযোগকে ঘিরে চিলাহাটিতে গড়ে ওঠে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সে সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় মুখরিত চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছিল মার্চেন্ট সমিতি।

সেই মার্চেন্ট সমিতির হাত ধরে এলাকায় হয়েছিল বিভিন্ন উন্নয়ন। তারই নিদর্শন চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের পর পথটি বন্ধ করে দেওয়া হলে স্থবির হয়ে পড়ে নীলফামারীসহ আশপাশের জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য। সেই থেকে ফের রেলপথ চালুর দাবি তোলে এলাকাবাসী। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ৫৫ বছর পর পথটি ফের চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশের সরকার।

আজ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন ঘোষণার পর চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে পণ্যবাহী একটি ট্রেন ছেড়ে যাবে ভারতের হলদিবাড়ির দিকে। ওই রেলবহরে থাকবে ভারতীয় ৩২টি খালি ওয়াগন। আর রেলবহরটিকে টেনে নিয়ে যাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ইঞ্জিন। এসব ওয়াগান হলদিবাড়ি রেলস্টেশনে রেখে ফের সীমান্ত অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসবে ইঞ্জিনটি।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ৫৫ বছর পর ফের এই পথে ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগের সূচনা ঘটবে।’

About Bappy Chowdhury

Check Also

ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে হাসিনা-মোদি

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে শীর্ষ বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *