বৃহস্পতিবার , সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২১
   বৃহস্পতিবার|১লা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
Breaking News

ভারতে তৈরি বলেই কি ‘উদ্দেশ্যমূলক’ সন্দেহ সৃষ্টি?

ফোকাস বাংলা ডেস্ক: করোনাভাইরাসের টিকা নেয়া না নেয়ার প্রশ্নে দেশের অনেক মানুষের মাঝেই এক ধরনের সংশয় বা আস্থার অভাব দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা ভিআইপিরা আগে টিকা না নেয়ায় সংশয় বাড়ছে। তবে সরকার মনে করছে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংশয় তৈরি করা হচ্ছে।

ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে বাংলাদেশের জন্য সরকারি টাকায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা কেনা হচ্ছে, তার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ ঢাকায় এসেছে সোমবার। এর আগে গত সপ্তাহে ভারত সরকারের উপহার হিসেবে আরো ২০ লাখ ডোজ টিকা এসেছিল। আগামীকাল (২৭ জানুয়ারি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস টিকাদান কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।

বিএনপি নেতারা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে বা ভিআইপিদের আগে টিকা নেয়ার দাবি তুলেছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাধারণ মানুষের সংশয়ের কারণে তারা এমন দাবি করছেন। বিশ্বজুড়েই এই ভ্যাকসিনের ব্যাপারে নানা কথাবার্তা রয়েছে। গণমাধ্যমে নানা রকম নিউজ হচ্ছে। সেজন্য আমেরিকা এবং ইউরোপেও মানুষের মাঝে একটা ভীতি আছে, একটা সন্দেহ আছে। বাংলাদেশেও টিকা নিয়ে ভয় এবং সন্দেহ বেশ ভালভাবেই আছে।

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং মন্ত্রীবর্গ যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের আগে টিকা নিতে হবে। তারা আগে নিলে সংশয় বা সন্দেহ কমে আসতো। সে কারণে আমরা তাদের আগে নেয়ার বিষয়টি বলছি।’

বিএন‌পির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব অ্যাডভোকেট রুহুল ক‌বির রিজভী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভারতের গবেষণাগারের ব্যাঙ, বিড়াল, তেলাপোকায় পরিণত হয়েছে। ভারত থেকে যে টিকা এসেছে তা বাংলাদেশের মানু‌ষের ওপর প‌রীক্ষা চালা‌নোর জন‌্য এসে‌ছে। ওরা (ভারত) দেখবে এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে মানুষ বাঁচে, না মরে, না অসুস্থ হয়। তারপরে ভিআইপিরা নেবে। তারপরে ভারত নেবে। ভ্যাকসিন যদি দেশের জনগণ নেয় তাহলে মানুষ বাঁচবে কি বাঁচবে না, সেই গ্যারান্টি নাই।’

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির অনেক নেতাই বিএনপি নেতাদের এ ধরণের বক্তব্যের সমালোচনা করছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা হলেও যেহেতু তা ভারতে উৎপাদন করা হয়েছে, সে জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে সংশয় তৈরি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড: আহমদ কায়কাউস বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ‘মহামারির লড়াইয়ে সামনের সারিতে যারা ছিলেন, ভিআইপিদের বাদ রেখে তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেয়ার পরিকল্পনাকে ভিন্নভাবে দেখা ঠিক নয়। যখন একটা ভ্যাকসিন আমাদের শীর্ষ পর্যায়ের কাউকে দেয়া হবে, তাকে দেয়ার জন্য ক্যামেরা নিয়ে যেতে হবে ১০টা। সেটা তো আসলে স্বাস্থ্যসম্মত হলো না।’

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধানমন্ত্রীর এবং ভিআইপিদের আগের টিকা নেয়ার যে দাবি এসেছে-সে ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেছেন, ‘আমাদের এখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটা ছিল যে, যারা সামনের সারিতে কাজ করে আমার আগে তাদের টিকা দরকার। এর ভেতরে অন্য কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা আগে টিকা নিলে আরো বেশি সমালোচনা করা হতো বলে তারা মনে করেন।

বিএনপি করোনা টিকার বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ও ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি আশা করেছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সঠিকভাবে করোনা মোকাবিলা করতে পারবে না। কিন্তু আমরা যেভাবে মোকাবিলা করেছি, তা আজ সমগ্র বিশ্বে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত। এরপর বিএনপি আশা করেছিল, সঠিক সময়ে টিকা আনা সম্ভবপর নয়। যখন সঠিক সময়ে টিকা চলে এলো, তখন তারা এই টিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।’

একজন সিনিয়র মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আগে টিকা নিলে তখন অগ্রাধিকার তালিকা বাদ দিয়ে মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগের নেতা বা রাজনীতিকদের আগে টিকা নেয়ার হিড়িক পড়তে পারে। যা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং এই বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। কিন্তু শীর্ষ পর্যায়ে আগে নেয়ার দাবি যদি বড় ইস্যু হয়, তখন সরকার আলোচনা করে দেখবে।

করোনাভাইরাস নিয়ে সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অধ্যাপক মোঃ: শহীদুল্লাহ বলেছেন, ‘ভারতের উপহার এবং কেনা টিকা নিয়ে সংশয়ের কোনো ভিত্তি নেই। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা শুধু ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে উৎপাদন করা হয়েছে। ভারতের উপহার এবং কেনা টিকা-দু’টো টিকাই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার। এগুলো ভারতের আবিষ্কার নয়। ফাইজার এবং মডার্নাসহ যে টিকাগুলো এখন বিশ্বে রয়েছে, তার মধ্যে অক্সফোর্ডের এই টিকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কম হয়েছে।’

এদিকে, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই টিকা নিয়ে সংশয় যাতে না থাকে, সেজন্য বিশেষজ্ঞ মতামত প্রচার করা এবং এর বিজ্ঞান সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কর্মসূচিও সরকার নিয়েছে।

About Bappy Chowdhury

Check Also

কোটি টাকায় ‘অহেতুক’ সেতু নির্মাণ

মাটি ও মানুষ : বিশেষ প্রতিনিধি :- পলিকা খালের মতো বান্দরবানের শহরতলির বিক্রিছড়ার ওপর নির্মিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *