বৃহস্পতিবার , এপ্রিল ১৫ ২০২১
   বৃহস্পতিবার|২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ২রা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Breaking News

অষ্টধার ইউনিয়নে মধুমতি ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিকদের মজুরি প্রদান

নাহিদ হাসান: ময়মনসিংহ সদরের অষ্টধার ইউনিয়নে মধুমতি ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে ওয়ার্ড ভিত্তিক  ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিকদের মাঝে মজুরি প্রদানের শুভ উদ্ভোধন করেন ১নং অষ্টধার ইউপি’র সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মোঃ তারেক হাসান।

গতকাল অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (EGPP) কাজের শ্রমিক মুজুরীর টাকা বিতরণ করা হয়।

শতভাগ স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ইউনিয়নের কর্মরত ৪২১ জন শ্রমিক  ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে মধুমতি ব্যাংকে মাধ্যমে মুজুরীর ৮হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা রেখে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। নিজের আঙ্গুলের ছাপ (ফিঙ্গার প্রিন্ট) দিয়ে অষ্টধার ইউনিয়নের কর্মহীন ও অতিদরিদ্ররা তাদের মুজুরীর টাকা বুঝে পেয়ে খুশিতে সরকার ও ইউপি চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অতিদরিদ্র পরিবারে কাজ কর্ম করতে অক্ষম হয়ে উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অনত্র কাজ না পাওয়ায় শ্রমিকদের আর যেন অলস সময় পার করতে না হয়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ দিনের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (EGPP) গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের দেওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ ও কাজের মুজুরী পেয়ে ওই পরিবারের অভাব অনটন দূর হয়েছে, ফলে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তথ্যসুত্রে জানায়- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মোট ১১ টি ইউনিয়নে মোট ৯৯ টি প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ১শত ১৬ জন অতিদরিদ্র শ্রমিক কাজ করেছে এই কর্মসূচিতে। তার মধ্যে অষ্টধার ইউনিয়নে মোট ৪২১জন শ্রমিক কাজ করেন। মধুমতি ব্যাংক এজেন্ট নাহিদ হাসান জানান-অষ্টধার ইউনিয়নের ৪২১জন শ্রমিক ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে সনাক্ত করে প্রতিজনের থেকে সঞ্চয় বাবদ ২০০০টাকা জমা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা রেখে ৬হাজার টাকা করে প্রদান করেন।

শ্রমিকগণ বলেন ৪০ দিনের এ কাজ পেয়ে আমার সংসারের অভাব দূর হয়েছে। তাছাড়া এই প্রকল্পে কাজ করতে কাউকে কোন ঘুষ দিতে হয়নি। মধুমতি ব্যাংকের মাধ্যমে আমি আমার আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে নিজের টাকা নিজে তুলেছি,এ জন্য কাউকে কোন দালালী ও ঘোষ দিতে হয়নি।

১নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী রিনা রানী রাজভর বলেন, সংসারের উপার্জন করার মত কেউ নেই, মহিলা বলে কেউ কোন কাজে লয়না, অনেক কষ্টে ছিলাম,তবে এই কাজটি পেয়ে ও স্বচ্ছ ভাবে আমার পারিশ্রমিকের টাকা আমার হাতে পেয়েছি। পরিবারের মুখে দু’মুটো ভাত তুলে দিতে পারছি। এতেই আমরা খুশি।

অষ্টধার ইউনিয়নে সরকারের এই প্রকল্পের কাজের মুজুরীর টাকা স্বচ্ছ ভাবে দেওয়া হচ্ছে বলে স্বীকার করে মহিলা শ্রমিক ফাতেমা বেগম বলেন, হুনছি মাইনসে কয় কর্মসৃজন এই কাজের বেতনের টাকা নাকি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অর্ধেক দেহালাল লাগে,কই আমিতো আমার টাকা আমার হাতেই তুললাম,কাউকে তো কোন টাকা-পয়সা দেওয়া লাগেনি। একজন শ্রমিক শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত একটানা মোট ৫দিন কাজ করেছেন।  প্রতিদিন ২শত টাকা হারে তাদের মজুরী প্রত্যেক সপ্তাহে নিজ নিজ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসেবে জমা করা হয়েছিলো। জমাকৃত সেই মুজুরীর টাকা মধুমতি ব্যাংকের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন-এ প্রকল্পের মাধমে এলাকায় রাস্তা, ড্রেন, কবরস্থান, ঈদগাঁ মাঠ, খেলার মাঠ, জলাধারসহ বিভিন্ন উন্নয়ন করা হয়েছে।

About Bappy Chowdhury

Check Also

মাংস দেওয়া নিয়ে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

স্টাফ রিপোর্টার :  বিয়ে বাড়িতে মাংস কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে কনে ও বর পক্ষের মধ্যে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *