মঙ্গলবার , জুন ২২ ২০২১
   মঙ্গলবার|৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
Breaking News

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস,‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’

একেএম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী: ‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’। গোটা পৃথিবী যখন করোনার প্রভাবে আতঙ্ক তখন প্রকৃতির উপর করোনার প্রভাব আর্শিবাদ স্বরোপ। প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। পানি ও বাতাসের দূষণ কমেছে। গাছপালা ও প্রাণিজগৎ সেঝে উঠেছে নতুন রূপে।

বর্তমান অন্ধকারময় পরিস্থিতিতে অতীতকে ফেরানো সম্ভব নয় ঠিকই। তবে আমাদের বেশি বেশি চেষ্টা করতে হবে। আমাদের আশেপাশের শহরকে আরও সবুজ রাখতে হবে। সবাই উদ্বিগ্ন না হয়ে পরিবেশের সচেতনতার বিষয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠার অঙ্গিকার নিতে হবে।

এ বছর পরিবেশ দিবসের থিম ‘বাস্ততন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা’। এবার এই গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনের জন্য এবার আয়োজক দেশ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে। ২০২০ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম ছিল ‘সেলিব্রিটি বায়োডাইভারসিটি’।

১৯৬৮ সালের ২০মে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সুইডেন সরকার। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা। সে বছরই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সাধারণ অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো।

পরে ১৯৭৩ সালে সম্মেলনের প্রথম দিন ৫জুনকে জাতিসংঘ ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এর পরের বছর আমেরিকায় ১৯৭৪ সালে ‘অনলি ওয়ান আর্থ’ বা ‘একমাত্র পৃথিবী’ এই থিম নিয়ে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

‘প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, হোক সবার অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫ জুন শনিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে এ দিবস।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও এবারের ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবসে’ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদফতর ও বন অধিদফতরের মাধ্যমে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে করোনাভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে সবুজ পৃথিবী গড়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে মানবজাতি ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রকৃতি যেন কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সারাবিশ্ব একসঙ্গে ‘লকডাউন’ হওয়ায় পরিবেশ দূষণ কমেছে, পৃথিবী একটি গাঢ় সবুজ গ্রহে পরিণত হয়েছে।’

পৃথিবীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসাবে একটি দিনকে আলাদা করে পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। যে পরিবেশের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে আজকের উন্নত মানব সভ্যতা, যে পরিবেশ আমাদের সমাজকে দিয়েছে বর্তমানের সমৃদ্ধি, সেই পরিবেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য একটি দিন উৎসর্গ করা আমাদের সকলের পবিত্র কর্তব্য।

আমাদের চারপাশের প্রকৃতি বা পরিবেশই হলো বর্তমানকালের অহংকারী মানুষের উন্নত সমৃদ্ধ সভ্যতার মূল ধারক। এই ধারক ও বাহকের মূলসত্তাই যখন গোড়া থেকে বিষিয়ে ওঠে সভ্যতারই ক্রিয়াকলাপে, তখন আপাতদৃষ্টিতে উন্নত বলে মনে হওয়া সমাজ অচিরেই ভেঙে পড়বে।

বিশ্বের বুকে প্রকৃতির অবদান বোঝাতেই এই দিন পালন করা হয়। এই দিনটি পালন এর মধ্যে দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের কাছে পৌঁছে যায় পরিবেশ সচেতনতার বার্তা। পরিবেশ এবং সভ্যতার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া সম্বন্ধে বহুলাংশে অজ্ঞ সাধারন মানুষ এই দিনটি পালনের মধ্য দিয়ে মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় পরিবেশের গুরুত্বের অসীমতা সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। ইউনাইটেড নেশনস বা রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগে প্রকৃতির অবদান সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে শুরু হয় এই উদযাপন। প্রকৃতিকে রক্ষা করতে পরিবেশবিদ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সচেতন করার চেষ্টা চালানো হয় এই নির্দিষ্ট দিনে।

About Bappy Chowdhury

Check Also

করোনা মহামারিতে বিদ্ধস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার আইসিইউ ই-লার্নিং পদ্ধতি

একে এম ফখরুল আলম বাপ্পী চৌধুরী : অগনিত সম্ভাবনাময় প্রাণ, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *