বৃহস্পতিবার , সেপ্টেম্বর ১৬ ২০২১
   বৃহস্পতিবার|১লা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ|১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
    ৮ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
Breaking News

মুক্তার বাহিনীর নামে মাদক বাণিজ্য,ধর্ষণ,ভূমিদস্যুতাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ- চরঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নবাসীর!!

বিশেষ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর হরিপুর,চর বড়লিয়া,চর আনন্দিপুর এই তিন গ্রামের আতঙ্কের নাম মোক্তার হোসেন (৪৫) ওরফে মুক্তার। এমন অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত ও একাধিক মামলার আসামী এই মুক্তার হোসেন।
মুক্তার ইতিপূর্বে বহু মামলার আসামী হলেও দিব্যি এই তিন গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কামেয় করে চলেছে বলে এলাকা বাসী অভিযোগ করেন। কথিত আছে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করা এই মুক্তার এমনভাবে কথার মায়াজাল সৃষ্টি করে, নিজের সুবিধামত খোলস পাল্টায়। আজ এই নেতা কাল সেই নেতা, নিজের পোষাকের মতই নেতা পাল্টে যাচ্ছে। নেতারা যেন তার সাথে ছবি তুলতে ব্যস্ত থাকেন, পাশে বসিয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিমায় ছবি তুলার রহস্য কি? অনেকই মন্তব্য করেন, তার অপরাধ সা¤্রাজ্যে উপার্জিত অর্থের একটা অংশ সেই নেতারাও পেয়ে থাকেন। সেই জন্যেই নেতাদের কাছে তার কদর। পরবর্তী পর্বে আসছে সেই নেতাদেরকে নিয়ে সেলফিবাজী ছবি সহ ভয়ংকর তথ্যবহ রিপোর্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, বিএনপি’র শাসনামল ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় এক বিএনপি নেতা কামাল, উপজেলা বিএনপি নেতা তোফাজ্জল এবং তার এক ভগ্নিপতির সহযোগীতায় এই তিন গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করেছে এই মুক্তার, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতা পাল্টিয়ে পাল্টিয়ে মিশে চলেছে শুধু নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিজের সুবিধা ও আধিপত্য ধরে রাখতে এক এক সময় এক এক নেতা বা গ্রæপের পাশে দাড়িয়ে ছবি তুলে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিত। মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর দৌরাত্বে তিন গ্রামের জনগণ দিনকে দিন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে বলে শোনা যায়। আওয়ামীলীগের নাম ব্যবহারকারী এই মুক্তার অদ্যাবধি কোন পদ পদবী না পেলেও নিজেকে যুবলীগের বড় নেতা হিসেবে দাবী করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় খবর নিয়ে জানা গেছে, এই তিন গ্রামে মাদক ব্যবসা,ধর্ষণ,ভূমিদস্যুতা,চাঁদাবাজী মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর হাত দিয়ে পরিচালিত হয় যার দরুন ঐ মুক্তারের নাম শুনলেই সাধারণ জনগণ রীতিমত আতঙ্কে উঠে।

মুক্তার বাহিনীর নামে মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় বড়বিলা গাঙ্গিনাপাড় বাজারে মুক্তার নিয়মিত মাদক সেবন এবং মাদক বাণিজ্য করে চলেছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, আমাদের এলাকায় অপরিচিত বহু লোকজন বর্তমানে নিয়মিত যাতায়াত করছে এর আগে এসব লোকজনকে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি। আশেপাশের গ্রাম থেকেও অনেক ছাত্র, যুবক তার কাছে আসে যারা মাদক কেনা-বেচার সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকেও বহু মানুষ প্রাইভেটকার এবং মোটর সাইকেল যোগেও তার কাছে আসতে দেখা যায়। গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, আমরা মুক্তারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। সে গ্রামের ভিতরে মাদকের আসর বসিয়ে গ্রামের তরুণ ও যুবক সমাজের মাঝে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হয় মুক্তারের এই মাদক বাণিজ্যের সহযোগীতা করে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আশরাফ (৪০) এবং হাসিম (৪০)। ইতিপূর্বে হাসিমের নামে মামলাও হয় যাহার নাম্বার-৫৬(৩)০৬ ইং এস আই দেওয়ান ইব্রাহিম বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে ১৯ এর ১(ক)/২৫ ধারার মামলাটি রুজু করে।

মুক্তার বাহিনীর নামে ইভটিজিং, ধর্ষণ মামলার অভিযোগ: মুক্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ইভটিজিং, ধর্ষণসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। ইতিপূর্বে চরহরিপুর গ্রামের এক নারীকে মুক্তার বাহিনী পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এবং একটি মামলাও হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ০৩) এর ৯(১)৩০ এর ধারায় মামলা নং: ৩৮, তাং ১৭/১১/০৯ ইং।
এলাকা সূত্রে খবর পাওয়া যায়, ভুক্তভোগী ঐ নারী দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার কোন সুবিচার পায়নি।
মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর ক্ষমতা এবং টাকার কাছে ধর্ষণ এবং ইভটিজিং এখন মামুলি ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে এমন রটনা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। এই তিন গ্রামে মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ইভটিজিং এর নানা অভিযোগ পাওয়া যায় কিন্ত ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না, আবার অনেকে লোক লজ্জার ভয়েও মুখ খোলেনা, বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

ভূমিদস্যুতা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ: সরেজমিনে জানা গেছে, মাদক ব্যবসা ছাড়াও মুক্তার বাহিনীর আরেকটি প্রধান বাণিজ্য হলো ভূমিদস্যুতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন মুক্তার বাহিনী নিরিহ প্রকৃতির লোকদের থেকে অভিনব কৌশলে চাঁদা দাবি করে, আবার অনেকের কাছে সরাসরিও চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে একজনের জমি অন্যজনের কাছ থেকে লিখে নিয়ে কিংবা জাল সিএস,আরওআর ও দলিল করে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন জমি পানির দামে বায়না করে পরে অন্যত্র বিক্রি করে কোটি টাকার মালিক বনে যান। অভিযোগ রয়েছে মুক্তারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে মুক্তার বাহিনীর অন্যতম সদস্য দলিল লেখক আসাদুল মড়ল(৩২), রোকন (৪০), সেকেন্ড ইন কমান্ড আশরাফ (৪০), সাবেক মেম্বার রেহান (৪৮)সহ আরো অনেকে জড়িত বলে জানা যায়, যাহা নাম পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

লোকমুখে শোনা যায় এমন বেশ কিছূ ভূক্তিভূগী মানুষ ঝামেলায় না গিয়ে মুক্তার বাহিনীর চাঁদার টাকা দিয়ে আপোষ করতে বাধ্য হয়। আবার হাতে গুনা ২/১ জন সাহস করে মুক্তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করলেও প্রশাসনিকভাবে কিংবা স্থানীয়ভাবে আপোষ করে চাঁদা আদায়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এই ভিন্ন কৌশলী নেতা এলাকায় বলে বেড়ায় প্রশাসনের কিছূ ব্যক্তিবর্গে সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যার দরুন এই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে মামলা করতেও লোকজন ভয় পায় বলে জানা যায়। ইতিপূর্বে পুলিশ এই সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করলেও টাকার জোড়ে আইনের ফাঁক ফোকরে বেরিয়ে আসে বলে খবর রয়েছে। চর হরিপুর, চর বড়বিলা, চর আনন্দিপুর এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত করে রাখে বলেও জানা গেছে। যার ফলে এই তিন গ্রামের নিরিহ সহজ সরল মানুষগুলো তার বিরুদ্ধে মুখ খূলতে ভয় পায়। এলাকা বাসীর দাবি মুক্তারকে আইনের আ্ওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়ত বেরিয়ে আসবে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই তিন গ্রামের সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চায়। এখন এলাকা বাসীর প্রশ্ন একটাই আদৌ কি তাদের অচিরেই মুক্তি মিলবে এই মুক্তার এবং মুক্তার বাহিনীর হাত থেকে?

About Bappy Chowdhury

Check Also

অপ্রতিরোধ্য আতঙ্কের নাম বন কর্মকর্তা আবুল ফজল

অনুসন্ধানী রিপোর্ট (পর্ব-১):একবিংশ শতাব্দীতে বন মানুষ! বনে জন্ম নিয়ে লতা-পাতা গায়ে জড়িয়ে পশু-পাখির সাথে বেড়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *