শৃঙ্খলা ফেরেনি জনপ্রশাসনে, আটকে আছে পদোন্নতি

অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে যুগ্মসচিব পদে ৪ বছর পার করেও ২০ তম ব্যাচ অতিরিক্ত সচিব হতে পারচ্ছে না। ২০০১ সালের ২৮ মে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২০ তম ব্যাচ চাকুরীতে যোগদান করে। এ ব্যাচের কর্মকর্তাগণ ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর সিনিয়র সহকারি সচিব, ২০১৫ সালের ০৬ এপ্রিল উপসচিব এবং ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। তবে সম্প্রতি এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, উপসচিব এবং যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণে বেশ কিছু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয় যারা ৫ আগস্টের পর পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়। এ ব্যাচে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোঠায় শতকরা ৩০ জন নিয়োগ পায়। এরাই জেলা প্রশাসক পদে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর পিএস হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পায়। তবে ১৭ তম, ১৮ তম এবং ২০ তম ব্যাচের জেলা প্রশাসকগণ ২০১৮ সালের রাতের ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় নিয়ে আসায় ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়েছে এবং যাদের চাকুরীর বয়স ২৫ বছর বা বেশি হয়েছে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রমতে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী কর্মকর্তার তদবিরে আটকে আছে ২০ তম ব্যাচে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতি। জনপ্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

যুগ্মসচিব হিসেবে ২ বছর সন্তোষজনক চাকুরীর পর যেখানে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিযোগ্য হয় সেখানে নিয়মিত পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের যুগ্মসচিব পদে ৪ বছর ইতোমধ্যে পার হলেও ২০তম ব্যাচের উপযুক্ত অফিসারদের পদোন্নতি হচ্ছে না। অথচ অতিরিক্ত সচিবের স্বল্পতার জন্য অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিভিন্ন অনুবিভাগে পদায়ন করা যাচ্ছে না। একজন অতিরিক্ত সচিব দুই বা ততোধিক অনুবিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সংস্থা ও কর্পোরেশনে চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী ও মহাপরিচালক পদ শুন্য থাকার পরেও কর্মকর্তা স্বল্পতার কারণে পদায়ন করা যাচ্ছে না।

জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য গত ফেব্রুয়ারী মাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্ম জীবনের সমস্ত নথিপত্র, প্রয়োজনীয় নম্বর, চাকুরি জীবনের শৃঙ্খলা, দুর্ণীতির বিষয়সহ সামগ্রিক বিষয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিগত সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পিএস ছিল, প্রধানমন্ত্রীর পিএস এপিএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক, মহাপরিচালক, যারা ২০১৮ সালের নৈশ নির্বাচনে ডিসি হিসেবে রিটার্ণিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছে এবং বিভিন্নভাবে বিগত সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য দেখিয়েছে তাদের পদোন্নতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

জানা গেছে, পদোন্নতির জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে আওয়ামী সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা। দলীয় সরকার ক্ষমতায় আসলে তারা এমপি মন্ত্রীদের ম্যানেজ করে পদোন্নতি নিশ্চিত করা যাবে মনে করে যে কোন মূল্যে পদোন্নতি ঠেকানোর চেষ্টা চালায়। ইতোমধ্যে এসকল কর্মকর্তা সরকারের কয়েকজন সচিব, একাধিক উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত সচিব পদোন্নতি আটকে রেখেছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অনুভবে বঙ্গবন্ধু গ্রন্থের ২৫ জন লেখক এবং রাতের ভোটের ওএসডি হওয়া ৩৯ জন সাবেক জেলা প্রশাসক পদোন্নতি আটকে দিতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের ৪১৮টি পদে ৩৩০টি পদে কর্মকর্তা আছে। যাদের মধ্যে ৩৮ জন ওএসডি। শুন্য পড়ে আছে ৮৮টি পদ। অর্থাৎ, বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদে কার্যত শুন্য পদের সংখ্যা ১২৬টি। গতিশীল প্রশাসনের স্বার্থেই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি জরুরী হয়ে পড়েছে।

ফোকাস বাংলা নিউজ/ এসকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *