শেখ হাসিনার রায়ের আগে সহিংসতার হুঁশিয়ারি জয়ের

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তাদের দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা না হলে সমর্থকেরা ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ঠেকিয়ে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জয় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পরিস্থিতি তেমন হলে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ গড়াতে পারে সহিংসতায়।

জুলাই অভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের একদিন আগে রোববার (১৬ নভেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, ‘আমরা খুব ভালোভাবেই জানি রায় কী হবে। তারা তো সরাসরি সম্প্রচার করবে। তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে, আর সম্ভবত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেবে। আমার মায়ের কী করতে পারবে তারা? আমার মা ভারতে নিরাপদ। ভারত তাকে পুরো নিরাপত্তা দিচ্ছে। তাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মতো’ দেখভাল করছে।’

রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিক্রিয় জানতে চেয়েছিল তারা; তবে সরকারপ্রধানের দপ্তরের মুখপাত্র সাড়া দেননি।

জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন আমরা হতে দেব না। আমাদের বিক্ষোভ আরও তীব্র হবে। যা দরকার তাই করব আমরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কিছু না করলে নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে…সংঘাত হবেই।’

জয় সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এবং তার মা শেখ হাসিনা দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন; তবে অন্তর্বর্তী সরকার বা বিএনপির সঙ্গে তাদের ‘যোগাযোগ নেই’।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিন আপনি দেখছেন- সারা দেশে শাটডাউন, বড় বড় বিক্ষোভ। এগুলো আরও বড় হবে।’

রয়টার্স লিখেছে, টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা একদিকে অর্থনীতি বদলে দেওয়ার জন্য কৃতিত্ব পেয়েছেন, আবার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দমন-পীড়নের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন।

তার সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ তিনটি নির্বাচনের মধ্যে দুটি বর্জন করে বিএনপিসিহ অধিকাংশ বিরোধী দল। এই ১৫ বছরে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দফায় দফায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যেতে হয়।

সেই পরিস্থিতি এখন উল্টে গেছে। জয় রয়টার্সকে বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) হতাশ, রাগান্বিত, ক্ষুব্ধ। আর আমরা সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ- যে কোনো উপায়ে লড়াই চালিয়ে যাব।’

ফোকাস বাংলা নিউজ/ এসকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *